মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
নকলায় “মাদককে না বলুন” কর্মসূচি বাস্তবায়নে শপথ গ্রহণ নকলায় জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নকলায় শিশু ও নারী নির্যাতন বিরোধী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নকলায় যুবদের হুইসেলব্লোয়ার হিসেবে অন্তর্ভূক্তিকরণ সভা নকলার ইউএনও শুদ্ধাচার পুরস্কার পাওয়ায় যুবফোরাম কর্তৃক সম্মাননা স্মারক প্রদান নকলায় ভাতাভোগীর লাইফ ভেরিফিকেশনে অনুপস্থিত থাকায় একজনের নাম কর্তন করে অন্যকে অন্তর্ভূক্তি নকলায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বেকারীর মালিককে জরিমানা নকলায় দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তদের মাঝে সমাজসেবার চেক প্রদান শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন নকলার ইউএনও সাদিয়া উম্মুল বানিন লাশটানা ভ্যানের চাকায় ঘুরে শাহীদের সংসার

এবারো নিজ উপজেলায় পরীক্ষা দেওয়া হচ্ছেনা! হতাশ নকলার পরীক্ষার্থীসহ অভিভাবক

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় | মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪
  • ২১০ বার পঠিত

সারাদেশের ন্যায় শেরপুরের নকলায় আগামী রোববার (৩০ জুন) থেকে এইচএসসি, আলিম ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্যি কলেজ কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের একপ্রকার উদাসিনতার কারনেই এবারো শিক্ষার্থীরা নিজ উপজেলার ভ্যানুত পরীক্ষা দিতে পারছেনা।

নিজ উপজেলা শহরে পরীক্ষা নেওয়ার মতো যথেষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও অজ্ঞাত কারনে হঠাৎ করেই ২০১৫ সাল থেকে হাজী জালমামুদ কলেজ কেন্দ্রের একটি ভ্যানু চৌধুরী ছবরুন নেছা মহিলা কলেজের পরিবর্তে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরের নালিতাবাড়ী উপজেলার শহীদ নাজমুল স্মৃতি কলেজে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। এতে করে প্রতি বছর পরীক্ষা চলাকালে কোন না কোন দিন দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয় পরীক্ষার্থীদের। অন্যদিকে গ্রামের দরিদ্র অভিভাবকদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা, নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময়, মানসিক চাপে থাকতে হচ্ছে কোমলমতি পরীক্ষার্থীদের। এসব বিবেচনায় নিজ উপজেলার চৌধুরী ছবরুন নেছা মহিলা কলেজ ভ্যানুটি পুনরায় বহালের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রতি বছর দাবি করে আসেছেন শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকগন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ স্থানীয় সর্বসাধারনের যৌক্তিক দাবির প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়া ৪ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে ও ফলাফল বির্পয়ের শঙ্কা দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ স্থানীয় জনগনের চাপের মুখে চৌধুরী ছবরুন নেছা মহিলা কলেজের ভ্যানুটি পুনরায় বহালের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছিলেন সরকারি হাজী জালমামুদ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলতাফ আলী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া উম্মুল বনিনসহ সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু কেন্দ্র ও কলেজ কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের একপ্রকার উদাসিনতার কারনে এবারো শিক্ষার্থীরা নিজ উপজেলার ভ্যানুত পরীক্ষা দিতে পারছেনা। এনিয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ জনমনে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রশাসনের কাছে ভ্যানুটি নিজ উপজেলাতে পুনরায় বহালের দাবি জানিয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকগন বলেন, শিক্ষার্থীদের কি এমন সুবিধা দেয়ার জন্যে অথবা কোন লাভে নকলা-নালিতাবাড়ীর পরীক্ষার্থীদের জন্য এই ধরণের দুর্ভোগ এবং দূরাবস্থা তৈরি করা হয়েছে? উভয় উপজেলাতেই পরীক্ষার্থীদের ইন্টার-চেঞ্জের জন্যে (এক কলেজের পরীক্ষার্থীদের অন্য কলেজে পরীক্ষা দেয়ার) উপযুক্ত সংখ্যক কলেজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকার পরেও কোন উদ্দেশ্যে হাজী জালমামুদ কলেজ এবং নাজমুল স্মৃতি কলেজ কর্তৃপক্ষ এই অস্বাভাবিক ব্যবস্থা তৈরি করলেন তার কারন জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন তারা। তাদের সকলের প্রশ্ন এটা কি সরকারের নির্দেশে করা হয়েছে? নাকি কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবির প্রেক্ষিতে এমন ব্যতিক্রমী অনাকাঙ্খিত ব্যবস্থা করা হয়েছে; তা সকলের জানা দরকার বলে অনেকে মনে করছেন। সারাদেশের মধ্যে নকলা ও নালিতাবাড়িতে একমাত্র ব্যতিক্রমী এমন ব্যবস্থার পিছনে মূলত স্বার্থ বা যুক্তিটা কি ছিল বা আছে? যার কারনে এক উপজেলার পরীক্ষার্থীদের অন্য উপজেলায় গিয়ে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। তাদের কোন অপরাধের জন্য যাতায়াত ঝুঁকিতে থাকতে হচ্ছে? এমন প্রশ্ন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের।

শুধু উক্ত দুই কলেজই না, পাশের ইউনিয়নের আরেকটা কলেজ চন্দ্রকোনা কলেজের নিকটবর্তী নিজ উপজেলার কেন্দ্র রেখে দূরবর্তী জেলা শহরের কলেজে কেন পরীক্ষা দিতে হচ্ছে? এর কারন অনুসন্ধান করাও প্রয়োজন বলে অনেকে মনে করছেন। এটাও অস্বাভাবিক স্থানান্তর বলে সর্বসাধারণ মনে করছেন।

উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবু হামযা কনক, সাবেক সভাপতি ঝিকরুল হাসান পিকুল ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল আজাদ ডেবিড, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুর রহিম মোস্তফা, শোয়েব মাহমুদ রিশাদ, মাহফুজুল ইসলামসহ অনেকে বলেন, নিজ উপজেলার ভ্যানুটি পুনরায় বহালের দাবীটি যৌক্তিক। পুনর্বহালের দাবীর সাথে তারা ঐকমত্য পোষণ করে জানান, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উত্থাপিত দাবীটি এখন সর্বমহলের ও সময়ের দাবী।

ধুকুড়িয়া এ-জেড টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রেজাউল আলম বলেন, সরকারি হাজী জালমামুদ কলেজের বিএম শাখার পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নকলা সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ভ্যানুতে নেওয়া হয়। এতে কোন সমস্যা হচ্ছেনা। বিজ্ঞান, মানবিক ও বানিজ্য শাখার পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা পুনরায় চৌধুরী ছবরুন নেছা মহিলা কলেজে বা নকলা সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ভ্যানুতে নেওয়া যেতে পারে। তাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ লাগব হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরো জানান, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগন ভ্যানু পুনর্বহালের ব্যবস্থা গ্রহন করার ক্ষেত্রে আন্তরিক হলেও এবং তাদের সবার সদয় সম্মতি থাকলেও শুধুমাত্র দুই কেন্দ্রের সচিব তথা অধ্যক্ষগনের সদইচ্ছা থাকলে এখনো ভ্যানু পুনরায় বহাল করা সম্ভব। তবে কেন্দ্র পরিবর্তন করার বিষয় হলে তা কঠিন হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন। এখন কাজ শুধু নকলার সরকারি হাজী জালমামুদ কলেজের পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রেরিত প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র লেখার খাতা গুলো নালিতাবাড়ীর শহীদ নাজমুল স্মৃতি কলেজ থেকে আনার ব্যবস্থা করা এবং শহীদ নাজমুল স্মৃতি কলেজের পরীক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র লেখার খাতা গুলো নকলা থেকে নালিতাবাড়ীতে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহন করা। এক্ষেত্রে উভয় কলেজের দায়িত্বশীলদের সামান্য বাড়তি কাজ করতে হবে, এর বিশে কিছু নয়।

চৌধুরী ছবরুন নেছা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক বলেন, ২০১৫ সালের পরে কেন আমাদের কলেজ থেকে ভ্যানুটি সড়িয়ে নালিতাবাড়ীতে নেওয়া হয়েছিলো এসবের কিছুই জানানেই। এর পরথেকে সরকারি হাজী জালমামুদ কলেজের পরীক্ষার্থীদের চৌধুরী ছবরুন নেছা মহিলা কলেজ ভ্যানুর পরিবর্তে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরের নালিতাবাড়ী উপজেলার শহীদ নাজমুল স্মৃতি কলেজে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীর জন্য খুবই কঠিন। তাছাড়া গ্রামের অভিভাকদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা, নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মূল্যমান সময়, মানসিক চাপে থাকতে হচ্ছে কোমলমতী পরীক্ষার্থীদের। এসব বিবেচনায় নিজ উপজেলার ভ্যানুটি পুনরায় বহালের দাবীর সাথে তিনিও ঐকমত্য পোষন করেছেন।

এবষিয়ে হাজী জালমামুদ কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ লূৎফর রহমান জানান, কোন এক সময় সরকারের নির্দেশ মোতাবেক (কলেজ ইন্টার চেন্স) হাজী জালমামুদ কলেজের পরীক্ষার্থীরা চৌধুরী ছবরুন নেছা মহিলা কলেজ ভ্যানুতে এবং চৌধুরী ছবরুন নেছা মহিলা কলেজের পরীক্ষার্থীরা হাজী জালমামুদ কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতো। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে হাজী জালমামুদ কলেজ ও চৌধুরী ছবরুন নেছা মহিলা কলেজ কর্তৃপক্ষের একে অপরের সাথে মনোমালিন্য সৃষ্টি হওয়ার কারনে মাঝখান থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হতে হচ্ছে, যা কারো কাম্য নয়।

সরকারি হাজী জালমামুদ কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল বার্সেদ জানান, ২০২৪ সালের পরীক্ষা গ্রহনের জন্য সকল কার্যক্রম যেহেতু প্রায় শেষের পথে সেহেতু এবারের পরীক্ষাটা হয়ে যাক। পরে নাহয় সব ঠিক করে নেওয়া হবে।

এবিষয়ে কেন্দ্র ও ভ্যানু পরিচালনায় অভিজ্ঞ অনেকে জানান, এখনো পরীক্ষা শুরুর ৫ দিন বাকি আছে। এই সময়ের মধ্যে কোন কেন্দ্র পরিবর্তন করা কঠিন হলেও, কর্তৃপক্ষ চাইলে ভ্যানু পরিবর্তন বা পুনর্বহাল করা মোটেও কঠিন কোন কাজ নয়। ভ্যানু পুনর্বহালের সম্ভাবনাময় কারন হিসেবে তারা জানান, এখন কাজ শুধু নকলার সরকারি হাজী জালমামুদ কলেজের পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রেরিত প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র লেখার খাতা গুলো নালিতাবাড়ীর শহীদ নাজমুল স্মৃতি কলেজ থেকে আনার ব্যবস্থা করা এবং শহীদ নাজমুল স্মৃতি কলেজের পরীক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র লেখার খাতা গুলো নকলা থেকে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহন করা। এক্ষেত্রে উভয় কলেজের দায়িত্বশীলদের সিট প্লান করাসহ সামান্য বাড়তি কাজ করতে হবে, এর বেশি কিছু নয়। কিন্তু তারা বাড়তি দায়িত্ব পালনে নারাজ বলে সরেজমিনে দায়িত্বশীলদের সাথে কথা বলে বুঝা গেছে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের এমন ধারাবহিক উদাসিনতার কারনে শিক্ষার্থীরা কোন প্রকার ক্ষতির সম্মুখিন হলে এর দায় কে নিবে? এমন প্রশ্ন সব পেশা শ্রেনীর জনগনের।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া উম্মুল বানিন এবিষয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ও সর্বসাধারনের দাবির ভিত্তিতে আমি বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানিয়েছি। তিনি আমাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে অনুমতি দিয়েছেন। এখন সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে আলোচনা সভা পূর্বক একটি রেজুলেশন করে নিজের উপজেলা কেন্দ্রের ভ্যানুটি পুনরায় বহালের চেষ্টা করতেছি। আমরা আশা করছি দ্রæতই নকলা কেন্দ্রের ভ্যানু নকলাতেই হবে।

নিউজটি শেয়ার করুনঃ

এই জাতীয় আরো সংবাদ
©২০২০ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | সমকালীন বাংলা
Develop By : BDiTZone.com
themesba-lates1749691102
error: ভাই, খবর কপি না করে, নিজে লিখতে অভ্যাস করুন।