মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
নকলায় বৈষম্যমূলক কোটা সংস্কার দাবিতে ও শিক্ষার্থীর ওপর বর্বর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন নকলায় উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির টিউবওয়েল বিতরণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী শ্লোগানের প্রতিবাদে নকলায় মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন এবার শেরপুরকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে ইত্যাদি অনুষ্ঠান : সকল কাজ প্রায় শেষ বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় নকলায় “মাদককে না বলুন” কর্মসূচি বাস্তবায়নে শপথ গ্রহণ নকলায় জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নকলায় শিশু ও নারী নির্যাতন বিরোধী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নকলায় যুবদের হুইসেলব্লোয়ার হিসেবে অন্তর্ভূক্তিকরণ সভা নকলার ইউএনও শুদ্ধাচার পুরস্কার পাওয়ায় যুবফোরাম কর্তৃক সম্মাননা স্মারক প্রদান

নকলায় সোনালী ধানের শীষ দেখে কৃষকের মুখে স্বপ্ন পূরণের হাসি

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় | বুধবার, ১ মে, ২০২৪
  • ৬৬ বার পঠিত

শেরপুরের নকলায় যতদূর চোখ যায় দেখা মিলে স্বপ্নের সোনালী ধানের মাঠ। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাতাসে সোনালী ধানের শীষগুলো যেন কৃষাণ-কৃষাণীদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলার প্রতীক হয়ে দুলছে। মাঠে স্বপ্নের সোনালী ধানের শীষ দেখে কৃষকের মুখে স্বপ্ন পূরণের হাসি ফুটে উঠেছে।

সোনার ধান গোলায় তোলার জন্য কৃষকরা প্রস্তুত। এরইমধ্যে কিছু এলাকায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। ফলে অধিক ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন কৃষক-কৃষাণীরা। তবে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকনোর জন্য বরাবরের মতো শ্রমিক সংকটের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। কোন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন না হলে এবার কৃষকরা গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি লাভবান হবেন বলে কৃষক ও মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাগন মনে করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, গত বছর উপজেলায় বোরো আবাদ হয়েছিল ১২, ৪০৫ হেক্টর জমিতে। ওই বছরের চেয়ে এবার ২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ বেশি করা হয়েছে। এবছর নকলায় ১২ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং আবাদ হয়েছে ১২ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে; যা লক্ষ্যমাত্রার সমান। এরমধ্যে হাইব্রীড জাত ৯ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে, এতে উৎপাদিত ধান থেকে চাল পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৩ হাজার ৯৫৫ মেট্রিকটন এবং উফশী জাত ২ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে, এতে উৎপাদিত ধান থেকে চাল পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার ১১৪ মেট্রিকটন।

ভূরদী খন্দকারপাড়া কৃষিপণ্য উৎপাদক কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব মো. ছায়েদুল হক জানান, এবার আবহাওয়া বোরো আবাদের অনুকূলে থাকায় কৃষকরা অধিক লাভের আশা করছেন। তিনি আরো জানান, এবার কিছু এলাকায় মাজরা পোকার আক্রমণ ছাড়া কৃষকদের তেমন কোন ক্ষতির সম্মূখিন হতে হয়নি। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ধানের দরপতনের কারনে এবারো কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখিন হলে আগামীতে ধানের পরিবর্তে ভূট্টাসহ অন্যান্য আবাদ করবেন বলে অনেক কৃষক-কৃষাণী জানান। তাই ধানের ন্যায্য দামের বিষয়ে সরকারকে সজাগদৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানান অনেকে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদী জানান, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ৮ হাজার কৃষককে বোরো প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে, ৪ হাজার ২০০ জনকে হাইব্রীড জাতের প্রণোদনা ও ৩ হাজার ৮০০ জনকে উফশী জাতের প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, এবছর উপজেলায় ব্রি ধান ৮৯, ব্রি ধান ৮৮, ব্রি ধান ৫৮, ব্রি ধান ২৮, সুপার হাইব্রিড, ব্যাবিলন, তেজগোল্ডের মতো উচ্চ ফলনশীল বিভিন্ন জাতের ধান বেশি আবাদ করা হয়েছে। ধান চাষের উপযোগী সব জমিকে আবাদের আওতায় আনতে ও জমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে করণীয় বিষয়ক পরামর্শ প্রদানসহ খড়া বা অনাবৃষ্টি তথা তাপতাহ থেকে ধানের মাঠকে রক্ষা করতে কী কী করণীয় রয়েছে এসব বিষয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন।

কৃষিবিদ শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদী আরো জানান, অনেক সময় শ্রমিক সংকটের কারনে ধান কাটার উপযোগী হওয়ার পরেও কৃষকরা যথাসময়ে ধান ঘরে তুলতে পারেন না। ফলে কৃষকদের ক্ষতির সম্মূখিন হতে হয়। তবে আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহার করলে কৃষকরা এ বিড়ম্বনা থেকে রক্ষা পেতে পারেন। এমন একটি আধুনিক কৃষিযন্ত্র হলো কম্বাইন হার্ভেস্টার। কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার ব্যবহারের ফলে ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ খরচ কমেছে। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে ধান ও গম কাটা ও মাড়াইয়ের অত্যাধুনিক যন্ত্র কম্বাইন হার্ভেস্টার কৃষকদের দোড়গোড়ায় চলে এসেছে। এ যন্ত্রের সাহায্যে একসঙ্গে ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তাবন্দি করা সম্ভব হচ্ছে। প্রতিটি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টারে সরকার ১৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ভর্তূকি দিচ্ছে। এ যন্ত্র দিয়ে ঘন্টায় ১১ থেকে ১৩ লিটার পরিমাণ জ্বালানিতে এক একর জমির ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তাবন্দি করা সম্ভব। হার্ভেস্টার ব্যবহার করলে প্রতি হেক্টরে কমপক্ষে ৬ হাজার টাকা কৃষকের বাঁচতে পারে বলে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুনঃ

এই জাতীয় আরো সংবাদ
©২০২০ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | সমকালীন বাংলা
Develop By : BDiTZone.com
themesba-lates1749691102
error: ভাই, খবর কপি না করে, নিজে লিখতে অভ্যাস করুন।