বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ০২:৩২ অপরাহ্ন

ছাত্রলীগ নেতা কনকের দেওয়া ভ্যানের চাকায় চলবে মতিনের সংসার !

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় | শুক্রবার, ২৪ মার্চ, ২০২৩
  • ২৫৫ বার পঠিত

শেরপুরের নকলা উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে আধাভাঙ্গা ভ্যানগাড়িতে ফেরি করে শরবত বিক্রির আয় দিয়ে কোনক্রমে সংসার চলছিলো। ৬ সদস্যের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস এই আর্ধভাঙ্গা ভ্যানগাড়িটি। কিন্তু ভ্যানগাড়িটি বেশ পুরাতন হওয়ায় প্রায় দিনই তা নষ্ট থাকতো। যেদিন তার ভ্যনগাড়িটি নষ্ট থাকতো, সেদিন পরিবারের সকলকে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করতে হতো। আজ সে উপহার হিসেবে একটি নতুন ভ্যানগাড়ি পেয়ে খুব খুশি। বলছিলাম ভ্যানগাড়ি দিয়ে হাট-বাজারে ফেরি করে শরবত বিক্রেতা কোরআনে হাফেজ শাহ মো. আব্দুল মতিনের কথা।

হাফেজ আব্দুল মতিন শেরপুরের নকলা উপজেলার পার্শ্ববর্তী জেলা ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং চার সন্তানের জনক। দীর্ঘদিন ধরে নকলা উপজেলা শহরসহ বিভিন্ন হাট বাজারে আধাভাঙ্গা ভ্যানগাড়িতে ফেরি করে শরবত বিক্রির আয় দিয়েই সংসারের সব খরচ চালিয়ে আসেছেন তিনি। শরবত বিক্রি করে দিন শেষে যে আয় হতো তাদিয়েই তার সংসার চালাতে হতো। নষ্ট ভ্যানগাড়িটি ঠিক করার মতো টাকা তার ছিলনা। এভাবে চলতে থাকায় আস্তে আস্তে ভ্যানগাড়িটির অধিকাংশ অকেজো হয়ে যায়। ফলে সপ্তাহে ২-৩ দিনই তাকে ঘরে বসে থাকতে হয়।

তার ৬ সদস্যের পরিবারের সকলের কষ্ট যেনো আস্তে আস্তে নিয়মিত হতে থাকে। দিশেহারা হয়ে পড়েন কোরআনে হাফেজ শাহ মো. আব্দুল মতিন। একটি দ্বিনী পরিবারের মানবেতর জীবন যাপনের বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে নকলা উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক আবু হামযা কনক-এর নজরে আসে। পরে দ্রুত সময়ের মধ্যে তরুণ সমাজ সেবক আবু হামযা কনক তার বাবা-মায়ের অনুমতিক্রমে হাফেজ মতিনের পরিবারের সদস্যদের কথা মাথায় রেখে একটি নতুন ভ্যানগাড়ী উপহার হিসেবে তুলেদেন। এখন থেকে উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক আবু হামযা কনক-এর উপহারের ভ্যান দিয়ে ফেরি করে শরবত বিক্রির আয় দিয়েই চলবে হাফেজ শাহ মো. আব্দুল মতিনের সংসার।

বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে আবু হামযা কনক ভ্যানগাড়ীটি হাফেজ আব্দুল মতিনের হাতে তুলে দেন। এর পর থেকে যেন আল্লাহর রহমতে কনকের উপহার দেওয়া ভ্যানের চাকায় চলবে হাফেজ মতিনের সংসার!

হাফেজ আব্দুল মতিন আনন্দশ্রু নয়নে বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে কনক ভাইয়ের উসিলাতে আমার জীবন চলার ও সংসার চালানোর গতি ফিরে ফেলাম। সমাজের সকল ধনাঢ্য ও দানশীল ব্যক্তিরা যদি বিচ্ছিন্ন ভাবে দান খয়রাত নাকরে কনক ভাইয়ের ন্যায় আমাদের মতো পরিবার বা লোক গুলো খোঁজে বেড় করে তাদের আয়ের স্থায়ী উৎস্য তৈরি করে দিতেন; তাহলে সমাজে দরিদ্র বলতে কেউ থাকত না।

আবু হামযা কনক বলেন, আমি সব সময় নিজের সামর্থের মধ্যে যেকোন অসহায়ের পাশে দাড়াঁতে চেষ্টা করি। শুধু আর্থিক ভাবে সহায়তা দেওয়ায় আমি বিশ্বাসী নই। যেকোন অসহায় যৌক্তিক কারনে যে ধরনের সহায়তা পাওয়ার যোগ্য বলে আমরা মনে করি, আমিসহ সকল ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী ঠিক সেই ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সদা তৎপর ছিলো, আছে এবং থাকবে। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, প্রতি বছর বোরো মৌসুমে যখন শ্রমিক সংকট দেখে দেয় এবং শ্রমিকের মজুরি মূল্য সমাজের অসহায় ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সার্মথের বাহিরে চলে যায়, তখন সারাদেশের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অসহায় ও নিম্নবিত্ত পরিবারের ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এরঅংশ হিসেবে সেই করোনার মহামারির সময় থেকে নকলা উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অসহায়দের ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া ছাড়াও প্রকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে অসহায় কৃষকদের রক্ষা করতে ভূট্টা তোলে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার মতো সেবাধর্মী বিভিন্ন কাজ করে বৃহত্তম ময়মনসিংহের মধ্যে সেরা ছাত্রলীগের উপজেলা ইউনিট হিসেবে নকলা উপজেলা সবার কাছে সুনাম অর্জন করেছে। ছাত্রলীগের এই সুনাম ধরে রাখতে সকলের পরামর্শ মূলক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন নকলা উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক আবু হামযা কনক।

নিউজটি শেয়ার করুনঃ

এই জাতীয় আরো সংবাদ
©২০২০ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | সমকালীন বাংলা
Develop By : BDiTZone.com
themesba-lates1749691102
error: ভাই, খবর কপি না করে, নিজে লিখতে অভ্যাস করুন।