মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
নকলায় “মাদককে না বলুন” কর্মসূচি বাস্তবায়নে শপথ গ্রহণ নকলায় জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নকলায় শিশু ও নারী নির্যাতন বিরোধী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নকলায় যুবদের হুইসেলব্লোয়ার হিসেবে অন্তর্ভূক্তিকরণ সভা নকলার ইউএনও শুদ্ধাচার পুরস্কার পাওয়ায় যুবফোরাম কর্তৃক সম্মাননা স্মারক প্রদান নকলায় ভাতাভোগীর লাইফ ভেরিফিকেশনে অনুপস্থিত থাকায় একজনের নাম কর্তন করে অন্যকে অন্তর্ভূক্তি নকলায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বেকারীর মালিককে জরিমানা নকলায় দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তদের মাঝে সমাজসেবার চেক প্রদান শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন নকলার ইউএনও সাদিয়া উম্মুল বানিন লাশটানা ভ্যানের চাকায় ঘুরে শাহীদের সংসার

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সর্বমহলে প্রশংসিত ‘সুইসাইড প্রোটেক্টিং স্কোয়াড বাংলাদেশ’

মো. মোশারফ হোসাইন:
  • প্রকাশের সময় | মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০২২
  • ১৮৭ বার পঠিত

‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’ (WHO)-এর এক তথ্য মতে জানা গেছে, প্রতিবছর সারা বিশ্বে যেসব কারণে মানুষের মৃত্যু ঘটে তার মধ্যে আত্মহত্যা ১৩তম অন্যতম প্রধান কারণ। বর্তমান সময়ে আত্মহত্যা অনেকটা মহামারীতে রূপ নেওয়ার উপক্রম। ঠিক এমন মূহুর্তে আত্মহত্যার প্রবণতা প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে সুইসাইড প্রোটেক্টিং স্কোয়াড বাংলাদেশ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।

আত্মহত্যা প্রতিরোধে ‘সুইসাইড প্রোটেক্টিং স্কোয়াড বাংলাদেশ’ নামে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী এ সংস্থার ভূমিকা প্রশংসনীয়। সর্বমহলে প্রশংসায় ভাসছেন এই সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকগন। তবে তাদের সরকারি-বেসকারি পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি বলে মনে করছেন অনেকে।

আত্মহত্যা বর্তমান সমাজব্যবস্থায় একটি নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায়শই শোনা যায় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ আত্মহত্যা করেছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীর মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা কম নয়। এমন কি দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা ঘটনা ঘটছে। ঘটনার অধিকাংশই ঘটছে সামান্য বা ছোট কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে।

শিক্ষক, চিকিৎসক, সরকারি-বেসকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন বয়সের ও নানান পেশায় কর্মরত মানুষের আত্মহত্যার পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। কিশোর-কিশোরী ও যুবক তথা পঁয়ত্রিশ বছরের নিচের বয়সের লোকের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা অধিক লক্ষণীয়।

বেসরকারি একটি সংস্থার সমীক্ষা থেকে জানা গেছে, বিভিন্ন কারনে প্রতিবছর প্রায় দশ লক্ষ মানুষ আত্মহত্যা করে। বাংলাদেশে প্রতিদিন ৪০জন হতাশাগ্রস্থ মানুষ আত্মহত্যা করে। ২০১৭ সালে এক বছরে বাংলাদেশে এক হাজার ১০০ মানুষ আত্মহত্যা করার ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন তথ্য মতে জানা গেছে।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর ও পুলিশের হিসেব মতে জানা গেছে, ২০২১ সালে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ১০১ জন। তবে আত্মহত্যা করার তুলনায় ২৫ গুণেরও বেশি সংখ্যক মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলে তথ্য মোতাবেক জানা গেছে। এই হিসেবের বাইরেও অনেক ঘটনা থাকতে পারে বলে ধারনা করা হয়।

এই ব্যাতিক্রম কাজকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন সংস্থাটির স্বেচ্ছাসেবকগন। যাদের মধ্যে ফয়সাল আহমেদ, সিদ্দিকুন সিমলা, বদরুল মোর্শেদ, রাব্বানী আহমেদ, শিমুল, নাঈম ও নজরুলসহ অনেকে। যারা সারাদেশে বিভক্ত হয়ে আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি করতে নানা রকম উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকদের দেওয়া তথ্য মতে, সুইসাইড প্রোটেক্টিং স্কোয়াড বাংলাদেশ অনলাইনের মাধ্যমে অন্তত ৫,০০০ হতাশাগ্রস্থ বিভিন্ন ব্যক্তিকে সেবা প্রদান করেছেন। আত্মহত্যার চিন্তা করেছে এমন ২৭০ জনকে সুস্থ্য জীবনে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে এই সংগঠনের স্বেচ্ছাসবকগন। তার জানান, দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা মূলক সভা, সেমিনার ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাথে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার পরিকল্পনা হাতে নিয়ে, তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ‘পারষ্পরিক সহমর্মিতা রুখতে পারে আত্মহত্যা’-এই স্লোগানের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রেখেই তারা সামনে এগিয়ে চলছেন।

‘সুইসাইড প্রোটেক্টিং স্কোয়াড বাংলাদেশ’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার মালিঝিকান্দা এলাকার বদরুল মোর্শেদ আসাদ জানান, একটি আত্মহত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্ঠ প্রায় ১৫০ জন মানুষ বিভিন্ন ভাবে ভুক্তভোগী হন। ভুক্তভোগীর মধ্যে পরিবার পরিজন, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশির পরিমাণ বেশি। বাংলাদেশে প্রতিদিন ৪০জন হতাশাগ্রস্থ মানুষ আত্মহত্যা করার হিসেব মতে, দেশে প্রতি দিন ৪ হাজার মানুষ ভুক্তভোগীর তালিকায় যুক্ত হন।

সুইসাইড প্রোটেক্টিং স্কোয়াড বাংলাদেশ-এর কাজের বিষয়ে সংস্থাটির পরিচালক (সার্বিক) সিদ্দিকুন সিমলা জানান, আমরা বিফ্রেন্ডিং মেথড অবলম্বন করে তথা হতাশাগ্রস্থ এর সাথে ঠিক বন্ধুত্ব তৈরি করে বন্ধুর মতো আচরণ করে হতাশাগ্রস্থ ব্যক্তিকে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করে থাকেন। এরইমধ্যে তারা অনলাইন ও অফলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে প্রায় তিনশত আত্মহত্যা প্রবণ লোককে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়াও অনলাইনের মাধ্যমে ৫ সহস্রাধিক আত্মহত্যা প্রবণ লোককে বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করেছেন বলে এ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা জানান। তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন- আমাদের কাজের পরিধি বৃদ্ধি করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। আমরা মানসিক স্বাস্থ্য সেবা দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে ছড়িয়ে দিতে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।

সংস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সংস্থাটির পরিচালক ও মুখপাত্র বদরুল মোর্শেদ জানান, বর্তমানে তারা অনলাইন ভিত্তিক কাজ বেশি করছেন। অফলাইনে সীমিত সংখ্যক কাজ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিনোদন কেন্দ্র স্থাপন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক সচেতনতা মূলক ক্যাম্পেইন, গ্রাম পর্যায়ে উঠান বৈঠক করাসহ নানামুখী সচেতনতা মূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অর্থাভাবে বা বেকারত্ব সমস্যার কারণে যেসকল লোকের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দেয়, তাদেরকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে উৎসাহিত করা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে তারা বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। অনলাইনের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে সুইসাইড প্রোটেক্টিং স্কোয়াড বাংলাদেশ-এর ঢাকা বিভাগীয় সমন্বয়ক রাব্বানী আহমেদের পরিচালনা ও উপস্থাপনায় প্রতি সাপ্তাহে ফেসবুক লাইভ প্রোগ্রাম আয়োজন করা হয়। যা জনগণের মাঝে সচেতনতা তৈরিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে বলে তারা মনে করেন।

এছাড়া সংস্থাটির নারী স্বেচ্ছাসেবগন কিশোরীদের বয়ঃসন্ধি কালীন মানসিক স্বাস্থ্য, প্যারেন্টিং তথা সন্তান লালন-পালন, তরুণ ও যুবক-যুবনারীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন এই সংস্থার স্বেচ্ছাসবকগন।

আত্মহত্যা প্রবণতারোধে কাজ করতে দেশের ২০ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষক দেওয়া হবে মর্মে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে সময় উপযোগী গুরুত্বপূর্ণ এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সংশ্লিষ্ঠদের প্রতি কৃতজ্ঞতাসহ ধন্যবাদ জানান ‘সুইসাইড প্রোটেক্টিং স্কোয়াড বাংলাদেশ’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার মালিঝিকান্দা এলাকার বদরুল মোর্শেদ আসাদসহ সংগঠনটির সাথে সংশ্লিষ্ঠ অনেকেই।

সুইসাইড প্রোটেক্টিং স্কোয়াড বাংলাদেশ’র ইমারজেন্সি রেসপন্স টিম সব সময় হতাশাগ্রস্থ ও আত্মহত্যা প্রবণ ব্যক্তিদের সার্বক্ষণিক সেবা প্রদানের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আগামীতে এই সংস্থার কাজের পরিধি আরো বৃদ্ধি করা হবে বলে স্বেচ্ছাসবকদের অনেকে জানান।

সংস্থাটির প্রধান সমন্বয়ক ফয়সাল আহমেদ জানান, তারা আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি ও মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করার পাশাপাশি বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করে আসছেন। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাব্যক্ত করেন।

তবে আত্মহত্যার প্রবণতারোধে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সুইসাইড প্রোটেক্টিং স্কোয়াড বাংলাদেশ’-এর জন্য সরকারি-বেসকারি পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি বলে মনে করছেন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

নিউজটি শেয়ার করুনঃ

এই জাতীয় আরো সংবাদ
©২০২০ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | সমকালীন বাংলা
Develop By : BDiTZone.com
themesba-lates1749691102
error: ভাই, খবর কপি না করে, নিজে লিখতে অভ্যাস করুন।