সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
নকলায় ময়মনসিংহ যুবসমাজ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ কবিতা :: ‘কোরবানির গরুর হাট’ নকলা প্রেসক্লাব’র উদ্যোগে সাংবাদিকদের ঈদ উপহার প্রদান নকলায় ১টি আগাম জামাতসহ ১০২ ময়দানে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে নকলায় কৃষকের মাঝে সার বীজ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী নকলার ১৭৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পেলো সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী’র ঈদ উপহার নকলায় গাছের সাথে শত্রুতা! সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী সংক্ষিপ্ত সফরে নকলায় পৌঁছেছেন নকলা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী ৩ প্রার্থীর শপথ গ্রহণ নকলায় ঈদ উপলক্ষে ২১৬৯ পরিবারের মাঝে ভিডব্লিউবি কর্মসূচির চাল বিতরণ

শিক্ষার্থীর মাঝে ইংরেজিতে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে ‘পাঠশালা’

মো. মোশারফ হোসাইন:
  • প্রকাশের সময় | বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ২৯১ বার পঠিত

বাংলা-ভারত সীমান্ত ঘেঁষা জেলা শেরপুরের নকলা উপজেলায় স্থাপিত পাঠশালা নামক বিদ্যাপীঠে শিক্ষার্থীদের মাঝে আন্তর্জাতিক ভাষায় (ইংরেজি) জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছ। মফস্বল এলাকায় এই কঠিন কাজটি করছেন নকলা পৌর শহরের গ্রীনরোডের মুহাম্মদ তৌহিদুল আলম রাসেল। তৌহিদুল আলম রাসেল ইউরোপীয়ান ষ্ট্যান্ডার্ড স্কুল এবং স্কলাষ্টিকা’র প্রাক্তন সিনিয়র ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন।

রাসেল রাজধানী ঢাকার সকল সুখ শান্তিকে দূরে ঠেলে নিজের এলাকার ছেলে মেয়েদের মধ্যে আন্তর্জাতিক ভাষার (ইংরেজি) জ্ঞান ছড়াতে ছুটে এসেছেন নিজ গ্রামে। ঢাকা থেকে ফিরে এসে নকলা পৌর শহরের রোড গ্রীনরোডে প্রতিষ্ঠা করেন পাঠশালা নামক উপজেলার প্রথম ও একমাত্র ইংরেজি মাধ্যমের এ বিদ্যালয়টি। তিনি বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠা হওয়ায় এলাকার আরও ৫ জন উচ্চ শিক্ষিত বেকার যুবক -যুবনারীসহ অল্প শিক্ষিত ২ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। তাদের জীবনে এসেছে স্বস্থি, পরিবারে এসেছে সুখ শান্তি।

“মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলার চেতনাতে বুকে ধারন করে আমাদের সন্তানেরা হয়ে উঠুক বিশ্বনাগরিক” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে গুণগত মানসম্পন্ন ইংরেজি মাধ্যমে দেশীয় ও আধুনিক শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে “পাঠশালা” নামক এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে জানান বিদ্যাপীঠের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মুহাম্মদ তৌহিদুল আলম রাসেল।

তিনি বলেন- কথায় আছে, ধ্যানের চর্চা হয় গুহায়, ধর্মের চর্চা হয় মসজিদ-মন্দিরে, নীতির চর্চা হয় পরিবারে আর বিদ্যার চর্চা হয় বিদ্যালয়ে। জাগতিক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের জন্য প্রয়োজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা লাভের স্তরভেদে আমরা স্কুল, কলেজ, মাদ্ররাসা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রভৃতি নামে বলে থাকি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে আমরা যে জ্ঞান বা শিক্ষা লাভ করি, তা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নামে খ্যাত। এমনই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলা-ভারত সীমান্ত ঘেঁষা জেলা শেরপুরের নকলা উপজেলায় অবস্থিত পাঠশালা। শিক্ষার্থীরা এই বিদ্যাপীঠের পরিচয় দিতে গৌরববোধ করে। সুনামের সহিত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে হাঁটি হাঁটি পা পা করে প্রতিষ্ঠাতাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ও এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় এ স্কুলটি আজ উপজেলা পর্যায়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির অপেক্ষায় আছে বলে তিনি জানান।

অধ্যক্ষ মুহাম্মদ তৌহিদুল আলম রাসেল বলেন, আমি দীর্ঘদিন রাজধানী ঢাকা শহরে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে আমার এই ইংরেজি মাধ্যমে দেশীয় শিক্ষার প্রসার ঘটিয়েছি। তবে প্রতিটি মানুষের নিজের জন্মভূমির জন্য কিছু করার দরকার, এমন দায়িত্ববোধ থেকেই নিজ জন্মভূমি নকলাতে এ শিক্ষার প্রসার ঘটাতে তিনি রাজধানী ঢাকা শহর ছেড়ে উপজেলা শহরে এসেছেন বলে তিনি জানান। বিদ্যালয়টির সুমান ধরে রাখতে ও উত্তরোত্তর সুমান বৃদ্ধি করতে নিজের অবস্থান থেকে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন; তবে এর এজন্য সকলের কাছে পরামর্শ ও শিক্ষার্থী ভর্তি করানোসহ সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র গ্রীনরোডে স্থাপিত “পাঠশালা” নামক এ বিদ্যালয়ের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত আছেন দেশ বিদেশের বরেন্য শিক্ষানুরাগীগন। তাদের মধ্যে দুই জনে হলেনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য, দেশ বরেণ্য শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট কলামিস্ট ও সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী ওহল্যান্ডের আমস্টারডাম সেন্ট্রাল হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত পুষ্টিবিদ ও প্রধান পাচক জ্যাক হিনেইন অন্যতম। পাঠশালা নামক এ বিদ্যাপীঠটি ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী কর্তৃক আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে।

ইউরোপীয়ান ষ্ট্যান্ডার্ড স্কুল এবং স্কলাষ্টিকা’র প্রাক্তন সিনিয়র ইংরেজি শিক্ষক, পাঠশালা বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মুহাম্মদ তৌহিদুল আলম রাসেলের সভাপতিত্বে ও ফাতেমাতুজ জহুরা রাত্রি’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন হল্যান্ডের আমস্টারডাম সেন্ট্রাল হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত পুষ্টিবিদ ও প্রধান পাচক জ্যাক হিনেইনসহ অনেকে।

এর পরে এই বিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি। দিন দিন বাড়ছে শিক্ষার্থী সংখ্যা। আসন সীমিত হওয়ায় বর্তমানে নতুন করে আর শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হচ্ছে না। তবে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাতে আসন শূণ্য হওয়া সাপেক্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। যেহেতু আসন সংখ্যা সীমিত, তাই ২০২৩ শিক্ষা বর্ষের জন্য আগ্রহী অভিভাবকদের এখই অফিসে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেছেন পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মুহাম্মদ তৌহিদুল আলম রাসেল।

এখানে পাঠ্য বইয়ের শিক্ষা ছাড়াও জীবন মান উন্নয়নে জাতীয় ও আান্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দান করা হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে জাতীয় ও আান্তর্জাতিক দিবস সমূহ যথাযথ মর্যাদায় পালনের পাশাপাশি সাপ্তাহিক লাইব্রেরী ডে, মাসিক প্যারেন্টস ডে-এর মতো আত্মউন্নয়ন মূলক বিশেষ দিবস পালন করা হয়। এতে করে একদিকে পাঠশালার প্রতি শিক্ষার্থীদের যেমন দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে, অপরদিকে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকগন।

তৌহিদুল আলম রাসেল আরও জানান, পাঠশালাতে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করা ছাড়াও এখানে ‘টিচার্স টেন্ট’-এর ব্যানারে   বিভিন্ন পেশাজীবীদের জন্য ইংরেজি বিষয়ে স্পোকেন ইংলিশ, বিজনেস কমিউনিকেশনসহ বিভিন্ন মেয়াদী ইংরেজী কোর্স চালু করা হয়েছে। এসকল কোর্সে সারা বছর ভর্তি কার্যক্রম চলে বলে জানা গেছে।

প্লে গ্রুপের শিক্ষার্থী জিনাব তাসনিম আরওয়া-এর বাবা জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল জানান, তার মেয়ে সকাল ৯ টা বাজার সাথে সাথেই ব্যাকুর হয়ে ওঠে তার প্রিয় পাঠশালাতে যাওয়ার জন্য। মাঝে মধ্যে ছুটির দিনেও সে পাঠশালাতে যাওয়ার বায়না ধরে। এতেই প্রমান হয় যে, পাঠশালাতে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাগন শিশু শিক্ষার্থীর প্রিয় ও আদর্শ ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়ে ওঠেছে। দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি শিক্ষর্থীদের এমন আগ্রহ থাকা উচিত বলে মনে করেন এই অভিভাবক।

উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষানুরাগীদের দিক নির্দেশনায় ও বিদ্যাপীঠের প্রতিষ্ঠাতা বিচক্ষণ অধ্যক্ষ মুহাম্মদ তৌহিদুল আলম রাসেলসহ প্রতিষ্ঠানটির সকল শিক্ষক-শিক্ষিকারদের অক্লান্ত পরিশ্রম, অভিভাকদরে আন্তরিকতায় এবং বিভিন্ন কৌশল অবলম্বনে “পাঠশালা” নামক এই বিদ্যালয়টি বর্তমানে ইংরেজি ভাষায় পরিচাািলত একটি আধুনিক শিক্ষা বিস্তারের ভাণ্ডারে পরিণত হচ্ছে বলে স্থানীয় সুশীলজন মনে করছেন।

উপজেলার শিক্ষার্থীদের গুণগত মানসম্পন্ন ইংরেজি মাধ্যমে দেশীয় ও আধুনিক শিক্ষা নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে না। উপজেলার কোন অভিভাবককে তাদের সন্তানদের নিয়ে আর রাজধানী, বিভাগ ও জেলাতে দৌঁড়াতে হচ্ছে না বলে জানান এলাকার সুশীলজন ও শিক্ষানুরাগীমহল।

নিউজটি শেয়ার করুনঃ

এই জাতীয় আরো সংবাদ
©২০২০ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | সমকালীন বাংলা
Develop By : BDiTZone.com
themesba-lates1749691102
error: ভাই, খবর কপি না করে, নিজে লিখতে অভ্যাস করুন।