মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ০৪:১১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
সেনাবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব নিলেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান : নকলায় আনন্দ মিছিল আ’লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নকলায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হংকংয়ে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের ঈদ পুনর্মিলনীতে বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণ ও প্রবাস পেনশন স্কীম বিষয়ক আলোচনা আ’লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নকলায় ফ্রি চক্ষুসেবা ও ছানি রোগী বাছাই নকলার বানেশ্বরদী ইউপি কার্যালয় পরিদর্শন নকলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত ১ নকলা প্রেসক্লাব পরিবারের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সাংগঠনিক আলোচনা নকলা উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব গ্রহন এবার গানের লেখক নারায়নগঞ্জের আলী হাসানকে শেরপুর থেকে লিগ্যাল নোটিশ রাজিব হাসানের লেখা ‘কুসংস্কার’

নকলায় স্বেচ্ছায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা দুলাল, বীর নিবাসের দাবী

এম.এম হোসাইন:
  • প্রকাশের সময় | রবিবার, ৬ মার্চ, ২০২২
  • ৩৯৯ বার পঠিত

শেরপুরের নকলা উপজেলার ধুকুড়িয়া গ্রামে নানার বাড়িতে স্বেচ্ছায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সারোয়ার আলম দুলাল (৬৮)।

নানার অছিহত অনুযায়ী ধুকুড়িয়া গ্রামে স্থায়ী ভাবে বসবাস করতে নানা মরহুম আতর আলী মাস্টারের বাড়ির পাশে স্থাপিত আফজালুন নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেকটা পরিত্যক্ত ছাত্রীবাসের একটি কক্ষে বসবাস শুরু করে এখনও সেখানেই আছেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা জরাজীর্ণ ঘরের একটি কক্ষে মানবেতর জীবন যাপন করবেন এটা কারো কাম্য নয়। তাই তাঁর নামে জরুরি ভিত্তিতে একটি সরকারি ঘর (বীর নিবাস) বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সুশীলজনসহ বিভিন্ন পেশাশ্রেণীর জনগন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সারোয়ার আলম দুলালের মামাতো ছোট ভাই অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বিদ্যুত বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা দুলাল ভাইয়ের নামে বীর নিবাস বরাদ্দ দেওয়া হলে ওই নির্মানের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ জমি দিতে আমি রাজি আছি। তবুও তিনি জীবনের শেষ বয়সে এসে শান্তিতে দিনাতিপাত করুক বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বিদ্যুত।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সারোয়ার আলম দুলাল জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার নালিতাবাড়ী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের জিটপাড়া (ছিটপাড়া) মহল্লার মৃত আশকর আলী ও মৃত শামছুন্নাহার দম্পত্তির বড় ছেলে।

তিনি শিশু, কিশোর জীবনসহ যৌবনের কিছু সময় কাঠিয়েছেন ময়মনসিংহ শহরে। যৌবনের সোনালী সময়ে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এঁর ডাকে সাড়া দিয়ে মহান মুক্তিযোদ্ধে যোগদেন। দেশ স্বাধীনের পরে তিনি নালিতাবাড়ীতে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। এর কিছুদিন পরে তিনি বাবা-মা হারান।

এরপরে প্রায় প্রায়ই নকলা পৌরসভাধীন ধুকুড়িয়া গ্রামের নানা মরহুম আতর আলী মাস্টারের বাড়িতে বেড়াতে আসতেন এবং বেশ কয়েকদিন করে নানার বাড়িতেই থেকে যেতেন। তিনি বিয়ে-সাধী করেননি, ফলে তার নেই কোন পিছুটান। তাই তার নানার অছিহত অনুযায়ী ধুকুড়িয়া গ্রামে স্থায়ী ভাবে বসবাস করতে নানা মরহুম আতর আলী মাস্টারের বাড়ির পাশে স্থাপিত আফজালুন নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বন্ধ হয়ে যাওয়া ছাত্রীবাসের একটি কক্ষে বসবাস শুরু করে এখনও সেখানেই আছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সারোয়ার আলম দুলালের মামা ও মামাতো ভাইয়েরা তাকে অনেক অনুরোধ করেও ভালো কোন কক্ষে নিতে পারেননি। চিরকুমার এই বীর মুক্তিযোদ্ধা আজও নিজের খাবার নিজের হাতে রান্না করেন। করো হাতের রান্না খাবার তিনি গ্রহন করেন না। তিনি হাট-বাজারে নাগেলেও অন্যদের দিয়ে নিত্যপণ্য কেনাকাটা করান। সমসময় চুপচাপ থাকতে পছন্দ করেন। বেশি কথাবার্তা বলেন না, এমকি কারও বেশি কথা বলা পছন্দও করেননা। তবে বাড়ির পাশের এক মসজিদে জামাতের সহিত নিয়মিত নামাজ পড়েন। তিনি বাহিরে যাওয়ার মধ্যে শুধুমাত্র বছরে দুই ঈদের নামাজ পড়তে ঈদগাহ মাঠে যান।

তার নেই কোন নিজের ঘর। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই আফজালুন নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বন্ধ হয়ে যাওয়া ছাত্রীবাসের একটি কক্ষে বসবাস করছেন বলে স্থানীয় অনেকে জানান।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সারোয়ার আলম দুলালের ছোট ভাই সনামধন্য চলচ্চিত্র পরিচালক নালিতাবড়ী উপজেলার নালিতাবাড়ী পৌরসভার জিটপাড়া (ছিটপাড়া) মহল্লার বাসিন্দা এ.কে সুহেল জানান, তার বড় ভাইয়ের জন্য ময়মনসিংহে পিতার বসত ভিটায় একটি ঘর করেছেন, কিন্তু সেখানে তিনি যেতে নারাজ। অনেক চেষ্টা করেও বীর মুক্তিযোদ্ধা সারোয়ার আলম দুলালকে ময়মনসিংহে বা নালিতাবড়ীতে নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জাননা এ.কে সুহেল।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সারোয়ার আলম দুলালের মামাতো ভাই অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বিদ্যুত বলেন, মুক্তিযোদ্ধা এই বড় ভাইকে ভালো একটি কক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করে বার বার ব্যর্থ হয়েছি। এখন আর আমরা কিছু বলিনা। তবে তার নিজস্ব কোন ঘর থাকলে হয়তোবা সেখানে যেতেন। তাই সরকারের তরফ থেকে নানার বাড়িতে স্বেচ্ছায় মানবেতর জীবন যাপনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা সারোয়ার আলম দুলালের নামে একটি বীর নিবাসের বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারলে তিনি জীবনের শেষ সময়টুকু অন্তত শান্তিতে কাটাতে পারতেন বলে স্থানীয় অনেকে মনে করছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা সারোয়ার আলম দুলালের বীর নিবাস বরাদ্দ হলে এর জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিতে রাজি অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বিদ্যুত।

৬৮ বছর বয়সী চিরকুমার এই বীর মুক্তিযোদ্ধা সারোয়ার আলম দুলাল এঁর জন্ম ৮ অক্টোবর, ১৯৫৪ খ্রি.; মুুক্তিযোদ্ধার লাল মুক্তিবার্তা তালিকা নম্বর: ০১১৪০৫০৩৬০।

তাঁর জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) না থাকায় সরকারের জারি করা এক পরিপত্রের ফাঁদে পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা সারোয়ার আলম দুলালের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা স্থগিত হয়ে যায়। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর তাঁর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা স্থগিত থাকার পরে চতুর্থ জাতীয় ভোটার দিবসে নকলা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তারেক আজিজ-এর একান্ত প্রচেষ্ঠায় ও উপজেলা নির্বাচন অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বিক সহযোগিতায় প্রায় ৩ ঘন্টা চেষ্টার পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা সারোয়ার আলম দুলাল-এঁর এনআইডি পাওয়ার জন্য তাঁর ফিঙ্গার প্রিন্ট, ছবি, চোখের ল্যান্স পাওয়ার ও আবেদন ফরমে স্বাক্ষর নিয়ে যথাযথ ভাবে আবেদন সম্পন্ন করেছেন।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তারেক আজিজ বলেন, জাতীয় ভোটার দিবসে দেশের একজন সূর্য্য সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা সারোয়ার আলম দুলাল-এঁর জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) এর কাজ নিজের হাতে করতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। এতেকরে বীর মুক্তিযোদ্ধা সারোয়ার আলম দুলাল-এঁর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা তুলার ক্ষেত্রে আরকোন বাধা রইলোনা বলে তারেক আজিজ মনে করছেন।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এমন জরাজীর্ণ ঘরের একটি কক্ষে মানবেতর জীবন যাপন করবেন এটা কারো কাম্য নয়। তাই তাঁর নামে জরুরি ভিত্তিতে একটি সরকারি ঘর (বীর নিবাস) বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সুশীলজনসহ সকল পেশাশ্রেণীর জনগন।

নিউজটি শেয়ার করুনঃ

এই জাতীয় আরো সংবাদ
©২০২০ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | সমকালীন বাংলা
Develop By : BDiTZone.com
themesba-lates1749691102
error: ভাই, খবর কপি না করে, নিজে লিখতে অভ্যাস করুন।