বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ১২:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
নকলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ নকলা প্রেসক্লাবের সভাপতির সাথে সাংবাদিকদের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় নকলায় কৃষকের মৃত্যু নিয়ে ধ্রুমজাল ! নকলায় ময়মনসিংহ যুবসমাজ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ কবিতা :: ‘কোরবানির গরুর হাট’ নকলা প্রেসক্লাব’র উদ্যোগে সাংবাদিকদের ঈদ উপহার প্রদান নকলায় ১টি আগাম জামাতসহ ১০২ ময়দানে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে নকলায় কৃষকের মাঝে সার বীজ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী নকলার ১৭৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পেলো সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী’র ঈদ উপহার নকলায় গাছের সাথে শত্রুতা! সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার

ড্রাম সিডার পদ্ধতিতে ধান চাষে লাভ বেশি

এম.এম হোসাইন, নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় | শুক্রবার, ১৬ জুলাই, ২০২১
  • ৩১৩ বার পঠিত

বীজতলা তৈরি না করে ড্রাম সিডারের মাধ্যমে সরাসরি ধান বপনে লাভবান হওয়ায় শেরপুরের নকলা উপজেলার অনেক কৃষক এই পদ্ধতিতে ধান চাষে ঝুঁকছেন। ধান চাষে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ড্রাম সিডার পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে ধান চাষ করতে বীজতলা তৈরি করতে হয় না। ফলে সময়, শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় কম হয়। সময়, খরচ ও শ্রম কম দিয়ে সনাতন পদ্ধতির চেয়ে বেশি ফসল পাওয়ায় নকলার কৃষকদের মধ্যে ড্রাম সিডার পদ্ধতিতে ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, দুপাশে প্লাস্টিকের দুটি চাকার ভেতর একটি লোহার দন্ডের মধ্যে সারিবদ্ধভাবে নির্দিষ্ট দূরত্বে ছোট আকৃতির ছয়টি প্লস্টিকের ড্রাম থাকে। প্রতিটি ড্রামে থাকে নির্দিষ্ট মাপের নির্দিষ্ট সংখ্যক ছিদ্র। প্লাস্টিকের চাকার সঙ্গে লাগানো থাকে একটি হাতল, হাতল ধরে কৃষক সহজেই যন্ত্রটি টানতে পারেন। ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা হলেই এই যন্ত্রটি স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহারে বানানো যায়। যন্ত্রটি হালকা বলে সহজে বহনযোগ্য। একজন লোক প্রতি ঘণ্টায় কমপক্ষে এক বিঘা জমিতে বীজ বপন করতে পারেন। এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে রোপা পদ্ধতির চেয়ে ১০ থেকে ১৫ দিন আগে ধান পাকে।

কৃষকরা জানান, ড্রাম সিডারের মাধ্যমে একজন কৃষক দিনে দুই একর জমিতে ধান চাষ করতে পারেন। কিন্তু সনাতন পদ্ধতিতে এই ধানের চারা রোপণ করতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন। ড্রাম সিডারে ধান চাষ করায় উৎপাদন খরচ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কম লাগছে। তাই ধান চাষে ড্রাম সিডার ব্যবহার লাভজনক দেখে দিন দিনে কৃষকরা এ পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন। ধান চাষে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ড্রাম সিডারের ব্যবহার।

উপজেলার টালকী ইউনিয়নের কৃষক জুলহাস উদ্দিন এবছর এক একর জমিতে ড্রাম সিডার পদ্ধতিতে সরাসরি বীজ বপনের মাধ্যমে ধান চাষ করেছেন। এতে তার ২০ ভাগ শ্রমিক খরচ সাশ্রয় হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, গত ২ বছর ধরে রুনিগাঁও গ্রামের কৃষক শাহাব উদ্দিন ড্রাম সিডার দিয়ে বোনা ধানের চাষ করায় রোপা ধানের তুলনায় শতকরা ১০ থেকে ২০ ভাগ বেশি ফলন পেয়েছেন। তা দেখে আমি ড্রাম সিডার দিয়ে ধান চাষ করার প্রতি আগ্রহী হয়েছি।

 

সরজমিনে পৌরসভার চরকৈয়া এলাকার কিষাণী ইয়াছমিন আক্তার ও কৃষক ফরিদুল ইসলাম, কুর্শাবাদাগৈড় এলাকার কৃষক লিয়াকত আলী, ভূরদীর কৃষক ছাইদুল হক ও কামাল মিয়া, পোলাদেশীর আব্দুল হালিম, মোজার বাজার এলাকার কিতাব আলীসহ অনেকের সাথে কথা হলে তারা জানান, এ প্রযুক্তিতে চাষ করলে সহজে যত্ন নেওয়া যায়। ফলে সনাতন পদ্ধতির চেয়ে ফলন ভালো পাওয়া যায়। কৃষকরা জানান, ড্রাম সিডারে ধান চাষে দিলেই চলে। সেচ ছাড়াও বিভিন্ন কারনে সনাতনী পদ্ধতির তুলনায় উৎপাদন খরচ অনেক কম লাগে। তারা আরও জানান, জমি ও পরিবেশ ভেদে আউশ, আমন ও বোরো তিন মৌসুমেই এ প্রযুক্তিতে ধান চাষ করা যায়, তবে আউশ ও বোরো ধান চাষে এটি বেশি উপযোগী। সনাতন পদ্ধতিতে ধান রোপণের জন্য জমি যেভাবে তৈরি করতে হয়, সেভাবেই জমি তৈরি করে ড্রাম সিডার দিয়ে ধান বপণ করতে হয়। তবে জমিতে যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ ফজলুল হক মণি ও কৃষিবিদ মাহমুদুল হাসান মুসা জানান, সনাতনী পদ্ধতিতে ধান রোপণের জন্য জমি যেভাবে কাদা করতে হয়, ঠিক সেভাবেই জমি উত্তমরূপে চাষ ও মই দিয়ে কাদাময় করে নিয়ে তারপর ড্রাম সিডারের মাধ্যমে ধান বপন করতে হয়। বোরো মৌসুমে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারীর প্রথমার্ধে এবং আমন মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা আছে এমন উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে জুনের শেষার্ধ থেকে জুলাইয়ের প্রথমার্ধে ধান বপন করা উত্তম। ড্রাম সিডারে সারি করে গাছ হওয়ায় আগাছা দমন সহজ হয়। এলসিসি ভিত্তিক ইউরিয়া প্রয়োগ করতে পারলে এই পদ্ধতিতে ধান চাষে সুফল বেশি পাওয়া যায়। ধানগাছ একটু বড় হলে রোপা পদ্ধতির মতোই পানি সেচ দিতে হয়। সঠিক পরিচর্যায় ড্রাম সিডারে বোনা ধানের ফলন রোপা ধানের তুলনায় শতকরা ১০ থেকে ২০ শতাংশ বেশি হতে পারে। এ পদ্ধতিতে চাষ করলে রোপা পদ্ধতির চেয়ে ১২ থেকে ১৫ দিন আগে ধান ঘরে তুলা যায় বলে তারা জানান।

উপসহকারী কৃষি অফিসার সারোয়ার জাহান শাওন, আশরাফুল ইসলাম ও মশিউর রহমানসহ অনেকে জানান, তারা এলাকায় ঘুরে ড্রাম সিডারের মাধ্যমে ধান চাষে কৃষককে উৎসাহিত করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ জানান, এই যন্ত্রটি হালকা হওয়ায় সহজে বহন করা যায়। ফলে সবাই এটি ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১২ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। এতে হাইব্রিড জাতের ৩ হাজার হেক্টরের কিছু বেশি, উফসী জাত ৬ হাজার হেক্টরের কিছু বেশি, বাকী জমিতে স্থানীয় সুগন্ধী জাতের ধান চাষ করার জন্য কৃষকদের প্রস্তুত করা হয়েছে। এবছর ৬৭০ হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ড্রাম সিডারের মাধ্যমে ধান চাষের উৎপাদন ব্যয় কম, কিন্তু ফলন বেশি পাওয়ায় কৃষক লাভবান হচ্ছেন। আগামীতে এই পদ্ধতিতে ধান চাষীর সংখ্যা ও জমির পরিমান বাড়বে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

নিউজটি শেয়ার করুনঃ

এই জাতীয় আরো সংবাদ
©২০২০ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | সমকালীন বাংলা
Develop By : BDiTZone.com
themesba-lates1749691102
error: ভাই, খবর কপি না করে, নিজে লিখতে অভ্যাস করুন।