শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ১০:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
নকলায় বৈষম্যমূলক কোটা সংস্কার দাবিতে ও শিক্ষার্থীর ওপর বর্বর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন নকলায় উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির টিউবওয়েল বিতরণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী শ্লোগানের প্রতিবাদে নকলায় মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন এবার শেরপুরকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে ইত্যাদি অনুষ্ঠান : সকল কাজ প্রায় শেষ বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় নকলায় “মাদককে না বলুন” কর্মসূচি বাস্তবায়নে শপথ গ্রহণ নকলায় জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নকলায় শিশু ও নারী নির্যাতন বিরোধী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নকলায় যুবদের হুইসেলব্লোয়ার হিসেবে অন্তর্ভূক্তিকরণ সভা নকলার ইউএনও শুদ্ধাচার পুরস্কার পাওয়ায় যুবফোরাম কর্তৃক সম্মাননা স্মারক প্রদান

নকলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভবন নির্মাণে জটিলতা নিরসনে তৎপর প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় | সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৭৫৩ বার পঠিত

শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ভবন নির্মাণে জটিলতা নিরসনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্ম তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগন।

এ উপলক্ষে ১ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুরের দিকে শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব-এর সভাপতিত্বে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাগনসহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিগনের সমন্বয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের যুগ্মসচিব পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. হাবিবুর রহমান। এ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে নকলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার আহাম্মেদ, নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও নকলা পৌরসভার মেয়র মো. হাফিজুর রহমান লিটন, রেকর্ড মূলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ভবনের জায়গার দাবীদার উপজেলার নারায়ণখোলা গ্রামের কেশব প্রসাদ ও দুধনাথ প্রসাদসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, ভূমি মন্ত্রণালয়ের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় নকলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ভবন দ্রুততর সময়ে নির্মানে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়। তাছাড়া আপাতত নকলার কোন ভবনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অস্থায়ীভাবে কাজ পরিচালনা বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এর আগের দিন ৩১ জানুয়ারি রবিবার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের যুগ্মসচিব পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. হাবিবুর রহমান নকলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ভবনটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। সোমবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিলনায়তনে আলোচনা সভায় যোগদানের লক্ষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের যুগ্মসচিব পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. হাবিবুর রহমান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আসেল তাকে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

নকলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ হলেও জমির মালিকানা সংক্রান্ত মামলায় সেই ২০০৬ সাল থেকে আইনি জটিলতায় বাকি কাজ ঝুলে আছে। জটিলতা দূর করে স্টেশনটি দ্রুত চালু করার লক্ষেই এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। মামলা নিষ্পত্তি হলেই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু করা সম্ভব বলে আলোচনা সভায় উপস্থিতিদের কয়েক জনের মাধ্যমে জানা গেছে।

দীর্ঘদিন পরে হলেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমানের একান্ত প্রচেষ্ঠায় জমির দাবীদারদের সাথে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাগনসহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিরা উন্মুক্ত ও সফল আলোচনা সম্পন্ন করেন।

উল্লেখ্য, এ আলাচনা সভা চলাকালে উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়ন বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ৪টি দোকান ও গুদাম ঘর পুড়ে যায়। এতে আলোচনা সভার সফলতা আরও বেগবান হয় বলে অনেকে মনে করছেন। ফলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে নকলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভবনের বাকি নির্মান কাজ শেষে আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু করা হবে বলে অনেকে আশাব্যক্ত করেন।

২০০৬ সালে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জন্য ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কের পাশে পৌর শহরে এক খন্ড জমি নির্ধারণ করা হয়। ওই বছরই প্রায় ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। রেকর্ড অনুযায়ী জায়গার মালিক নারায়ণখোলা গ্রামের দুই ভাই কেশব প্রসাদ ও দুধনাথ প্রসাদ। সীমানা নির্ধারণের সময় ফায়ার সার্ভিসকে বাঁধা দেন। পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের সহযোগিতায় ওই জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। নির্মান কাজ প্রায় ৮০ ভাগ শেষ হয়ে গেলে, ওই দুই ভাই আপত্তি জনিয়ে আদালতে মামলা করেন এবং আদালতের নির্দেশে নির্মাণ কাজ স্থগিত করা হয়। এরপর থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে। একটি ফায়ার সার্ভিসের অভাবে প্রায়ই যেভাবে জনগণের সম্পদ পুড়েছাই হচ্ছে তা নিসন্দেহে উদ্ধেগজনক। ৯টি ইউনিয়ন ও দ্বিতীয় শ্রেণির ১টি পৌরসভার সম্বনয়ে গঠিত নকলা উপজেলায় আড়াই লক্ষাধিক জনগনের জান-মাল রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি চালু করার জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী। এবার জনগনের দাবী বাস্তবায়ন হতে চলছে বলে অনেকে মনে করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুনঃ

এই জাতীয় আরো সংবাদ
©২০২০ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | সমকালীন বাংলা
Develop By : BDiTZone.com
themesba-lates1749691102
error: ভাই, খবর কপি না করে, নিজে লিখতে অভ্যাস করুন।